আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সচেতনতামূলক ‘বিশেষ বার্তা’

ডেস্ক রিপোর্টার :: গ্রীষ্মের শুরুতেই(বৈশাখ) দেশে শুরু হতে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ২০১৯ সালে দেশে রেকর্ড সংখ্যক এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এবারও বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া বদলাচ্ছে, বৃষ্টি হলে প্রকোপ বাড়বে। তাই এখন থেকেই মশা নিধন কার্যক্রম চালানোর কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। না হলে গতবারের চেয়েও পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

এদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘বিশেষ এক বার্তা’ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। সেই ‘বিশেষ বার্তাটি’ দৈনিক সিলহট পাঠাকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘‘ডেঙ্গুজ্বর একটি এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ। বসন্তঋতু আমাদের মধ্যে প্রবেশ করেছে, এর পরই আমাদের দেশে আসবে গ্রীষ্মঋতু। এ ঋতুতেই ডেঙ্গুর আবির্ভাব হয় আমাদের দেশে। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গুজ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রথমে প্রতিরোধ করতে হবে এডিস মশার বংশবিস্তার। গ্রীষ্মকালে এডিস মশার বিস্তার প্রকট আকার ধারণ করে আমাদের দেশে। এডিস মশার ডিম বা বংশবিস্তার হয় জমে থাকা পানিতে। ১৯টি জায়গায় এডিস মশা বেশি বসবাস করে থাকে বলে জানিয়েছেন ভি নাগপাল নামক একজন কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ।

এগুলো হলো- পুরনো টায়ার, লন্ড্রি ট্যাংক, ঢাকনাবিহীন চৌবাচ্চা, ড্রাম বা ব্যারেল, অন্যান্য জলাধার, পোষা প্রাণীর পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের ব্লক, ফেলে রাখা বোতল ও টিনের ক্যান, গাছের ফোকর ও বাঁশ, দেয়ালে ঝুলে থাকা বোতল, পুরনো জুতা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত খেলনা, ছাদে, অঙ্কুরোদগম উদ্ভিদ, বাগান পরিচর্যার জিনিসপত্র, ইটের গর্ত এবং অপরিচ্ছন্ন সুইমিং পুলে এডিস মশা জন্ম নেয়।

এডিস মশার বংশ বিস্তার হয় আমাদের অবহেলিত এই সমস্থ জায়গা করে দেয়ার ফলে। তাই, আমাদের সচতেনতাই পারে এডিস মশা প্রতিরোধ করতে। আমরা যদি গ্রীষ্মঋতু আগমনের আগে থেকেই এসব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফেলি তাইলে এডিস মশা বিস্তারের সম্ভাবনা শূন্যের কোটায় চলে আসবে।

ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হওয়া হচ্ছে প্রথম করণীয়। তখন সবচেয়ে জরুরি পরিপূর্ণ বিশ্রাম এবং বেশি করে তরল খাবার গ্রহণ। দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। তাই, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে হাসপাতালে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। আমরা সরকার থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। পাশাপাশি আপনাদের সচেতনতা ও সকলের একাত্নতা পারে আমাদের এ থেকে মুক্তি দিতে।’’

খবরসূত্র : সিলেটভিউ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap