আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২২ ইং

ওয়েসিস হসপিটাল : সিলেটে স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিশ্রুতি পুরণে বদ্ধপরিকর

ডেস্ক রিপোর্টার :: দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটে স্বাস্থ্যসেবায় ৬ বছর আগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে প্রাইভেট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েসিস হসপিটাল’। সেই থেকে আজ অবধি চিকিৎসাসেবায় অনন্য অবদান রেখে চলেছে হসপিটালটি। চিকিৎসাসেবায় আন্তর্জাতিক মান ও দরিদ্র রোগীদের সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ হসপিটালটি তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

ওয়েসিস হসপিটালে রয়েছে চিকিৎসাসেবার উন্নত মান ও গরিব অসহায় রোগীদের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক আর্থিক ছাড় এবং অবস্থা বিবেচনায় বিনামূল্য সুবিধা প্রদান।
ওয়েসিস হসপিটালের সাফল্য ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক তথ্যগুলো সিলেটের শীর্ষ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের কাছে তুলে ধরেন ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ডাক্তার সোলাইমান আহমদ এবং ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর ডাক্তার নুরুল হাসান সিদ্দীকি।

যে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা : জটিল রোগে আক্রান্ত এ দেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক সময়ই দেখা দেয় বিদেশ যাত্রা বিষয়ক জটিলতা এবং মুখোমুখি হতে হয় বহির্দেশে অবস্থানকালীন আবাসিক সমস্যাগুলোর। এছাড়াও যাতায়াত খরচের আর্থিক সংকটতো রয়েছেই। সেসব বিষয় সামনে রেখেই পূণ্যভূমি সিলেটে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন সিলেটের একঝাঁক তরুণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। তাদের সঙ্গে একীভূত হয়ে এগিয়ে আসেন আল্লামা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী। যিনি বর্তমানে হাসপাতালটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও অবহেলেতি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাটে ১১ শতক (৭০ হাজার স্কয়ার ফিট) জায়গার উপর ২০১৪ সালে গড়ে তোলা হয় বিশ্বমানের ‘ওয়েসিস হসপিটাল’। হসপিটালটির উদ্বোধন করেন তৎক্ষালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা : ৮০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ওয়েসিস হসপিটাল’র ডায়াগনেস্টিক সেন্টার বিভাগটি অত্যাধুনিক এবং উন্নত মেশিনারিজসম্পন্ন এবং ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। বিভিন্ন টেস্টের মেশিনগুলো সময়ে সময়ে আপডেট করা হয়। প্রত্যেকটি টেস্টের রিপোর্ট বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্স দ্বারা সুক্ষ্মভাবে চেক করে তারপর রোগীর কাছে দেয়া হয়।
হসপিটালটিতে করা নিউরো, ব্রেইন, গাইনি, স্প্যাইনসহ সকল ধরণের ক্রিটিকাল সার্জারি।এর জন্য রয়েছেন ২৫-৩০ জন বিশেষজ্ঞ ও সার্জারি চিকিৎসক। ক্যান্সার রোগীদের দেয়া হয় কেমু থেরাপি।
‘ওয়েসিস হসপিটাল’র ইমার্জেন্সি বিভাগ খোলা থাকে ২৪ ঘণ্টা। ইমার্জেন্সি বিভাগে শিফটিং ব্যবস্থায় উপস্থিত থাকেন এমবিবিএস ডাক্তার ও সংশ্লিষ্ট নার্স-সেবকরা। এই বিভাগে ইমার্জেন্সি রোগীদের ছোট-খাট অপারেশনসহ দেয়া হয় সকল ধরনের চিকিৎসাসেবা।
এছাড়াও হসপিটালটিতে রয়েছে উন্নতমানের আইসিসিউ, সিসিউ, এনসিইউ ও ডায়ালাইসিস-সহ রোগীদের সকল পর্যবেক্ষণবিভাগ।

গরিব রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা : ‘ওয়েসিস হসপিটাল’র রয়েছে একটি জাকাত ফান্ড। এই ফান্ডে আসা পরিচালকদের জাকাতের টাকাসহ বিভিন্নজনের অনুদানের টাকায় হতদরিদ্র্য ও অসহায় গরিব রোগীদের সম্পূর্ণ বিমামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। অনেক সময় আউটডোরের ৮০০ টাকা পরামর্শ ফি’র চিকিৎসকও বিনামূল্যে গরিব রোগীকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আউটডোর : হসপিটালটির আইটডোরে সকল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তরা রোগী দেখেন। এর মধ্যে কনসালটেন্ট ও ডাক্তারভেদে ৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ফি রয়েছে। বহির্বিভাগের রোগীদের অহেতুক টেস্ট দিয়ে হয়রানি করা হয় না। এছাড়াও বিভিন্ন দিবস বা মাস- যেমন স্বাধীনতা দিবস, বঙ্গবন্ধুর জন্ম-মৃত্যুদিবসসহ অন্যান্য বিশেষ দিনে ৩০-৪০ পার্সেন্ট পর্যন্ত ছাড় দেয়া সকল সার্ভিসে।

অত্যাধুনিক এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস : হসপিটালটির রয়েছে আইসিসিউ সুবিধাসম্পন্ন এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। যা সিলেটের আর কোনো হসপিটালের নেই। বিগত দিনে রাষ্ট্রপতি আসলে উনার গাড়িবহরে সেই অত্যাধুনিক এ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য ওয়েসিস হসপিটালের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল টিম প্রদান করে সেবা দেয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সিলেটে বিদেশি মেহমানরা আসলে ওয়েসিস হসপিটালের পক্ষ থেকে তাদের সম্মানার্থে মেডিক্যাল টিম প্রদানসহ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও সিলেটে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত খেলাগুলোতে স্পন্সর হিসেবে ছিলো ওয়েসিস হসপিটাল। এই ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আগামীর পরিকল্পনা : ওয়েসিস হসপিটালে খুব শীঘ্রই ডাক্তারদের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে এবং একটি আধুনিক ব্যবস্থাসম্পন্ন নার্সিং ট্রেনিং ইন্সটিটিউট খুলা হবে। সে লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করছেন কর্তৃপক্ষ।

 

খবরসূত্র : সিলেটভিউ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap