আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

দক্ষিণ সুরমায় হিজড়াদের লাগামহীন দৌরাত্ম্য

সিলহট রিপোর্টার :: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় হিজড়াদের উৎপাতের মাত্রাটা লাগামহীন। রাস্তায় চাঁদাবাজির পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমায় এখন বাড়ি-ঘরেও হানা দিচ্ছে হিজড়ারা। তবে এ নিয়ে মোটেও মাথাব্যথা নেই পুলিশপ্রশাসনের। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে তারা বলছে, ‘ওদেরকে ঘাটাবেন না, যা বলে শুনে নেবেন’- এমন অভিযোগ ভোক্তভোগীদের।

জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে হিজড়াদের কবলে পড়ে প্রতিদিন সর্বস্বান্ত আর অপমানিত হচ্ছেন অনেকে। এমন অবস্থায় দক্ষিণ সুরমাবাসী অতিষ্ঠ এবং কোমলমতি শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষরা আতঙ্কিত।

কয়েক মাস থেকে দেখা যাচ্ছে, রাত পোহাবার পর থেকেই দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল থেকে নিয়ে নাজিরবাজার পর্যন্ত সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৫/৭ জন করে হিজড়ারা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকে। বিশেষ করে তেতলি সুনামগঞ্জ বাইপাসের মুখ এবং লালাবাজার ও রশিদপুর এলাকায় তাদের উৎপাত খুব বেশি। এদের টার্গেট বেশি থাকে বিয়েবাড়ি এবং বরযাত্রী বহনকারী গাড়ি। বিয়ের গাড়িবহর দেখলেই হিজড়ারা দলবেঁধে পথ আগলে রেখে বড় অংকের চাঁদা দাবি করে বসে। চাহিদামতো টাকা না দিলে হিজড়ারা চটে যায় এবং অনেক সময় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে পরণের কাপড় খুলে ফেলে। এত চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন বর ও বরযাত্রী নারী-পুরষরা।
এমন একটি ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার। ওইদিন দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের কাছে সিলেট-ঢাকা মহাড়কে এক বরযাত্রীর গাড়িবহরকে আটকায় ৫ হিজড়া। বৃষ্টি হচ্ছিলো এই সময়। ওই বৃষ্টির সময় দৃষ্টিকটূ কাপড় পরে হিজড়ারা বরের গাড়ি আটকে প্রথমে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। বরের চাচাতো ভাই তখন গাড়ি থেকে নেমে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তৎক্ষণাৎ এক হিজড়া পরণের কাপড় খুলে ফেলে এবং তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে। উপায়ন্তর না দেখে ওই যুবক হিজড়াদের ৫ হাজার টাকা দিয়ে বরের গাড়ি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
এভাবেই প্রতিনিয়ত সম্মানহানির ভয়ে অসহায় হয়ে হিজড়াদের চাহিদামতো চাঁদা দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে বরযাত্রীদের।

এদিকে, বর্তমানে দক্ষিণ সুরমায় বাড়ি-ঘরে গিয়েও হানা দিচ্ছে হিজড়ারা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের দরজায় দাঁড়িয়ে ৫-১০ কেজি পর্যন্ত চাল দাবি করে বসে তারা। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বাচ্চাদের জিম্মি করে চাল বা টাকা আদায় করে হিজড়ারা। এতে চরম আতঙ্কে আছেন দক্ষিণ সুরমার মানুষ।
দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মনির আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, গত সপ্তাহে এক হিজড়া আমাদের বাড়িতেও হানা দেয়। আমার ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে ৫ কেজি চাল দাবি করে। পরে এক কেজি পরিমাণ চাল দিয়ে ‘আর নেই’ বলে অনেক বুঝিয়ে সেই হিড়জাকে বিদায় করেছি।

দক্ষিণ সুরমায় হিজড়াদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্কুলগামী শিশু, কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষ কেউই। টাকা না দিলে মারমুখী হয়ে উঠেছে হিজড়ারা। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হিজড়ারা বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে জোর করে । না দিলে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করছে তারা। এমন ভয়ঙ্কর অবস্থায়ও পুলিশ নিরব।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টা আমাদের জানা নেই। এখন জানলাম- দেখি কী করা যায়।

ভোক্তভোগীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি- এ বিষয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমার দু’একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে তাদের উৎপাত ছিলো। লোকজন অভিযোগ করায় আমরা হিজড়াদের তাড়িয়ে দিয়েছি। এখন আর তারা আসে না। আর বাকি জায়গাগুলোর কথা জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap