আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

গরু-পূজা নতুন কিছু না

  • লিখেছেন : ওমর আলী আশরাফ

গরু-পূজা নতুন কিছু না। প্রায় চার হাজার বছরের পুরোনো। মুসা আলাইহিস সালাম তুর পাহাড়ে যাওয়ার সময় রেখে যাওয়া তার অনুসারীদের মধ্যে সামেরি এই কাজটা করেছিল। বনি ইসরাইলিদের অলংকার গলিয়ে তার ভেতর সঞ্জীবনী শক্তি সঞ্চারিত মাটি পুরে দিয়ে একটা গরুর আকৃতি তৈরি করে। তারপর সেটার ভেতর থেকে ‘হাম্বা’ শব্দ বের করিয়ে মানুষজনকে ভড়কে দেয়। মানুষ গরুর পূজা শুরু করে।
“অতঃপর সামেরি তাদের জন্য তৈরি করে বের করল একটি গরুর বাছুর, একটি অবয়ব, যা হাম্বা ডাক দিচ্ছিল। সে বলল, এটা তোমাদের উপাস্য এবং মুসারও উপাস্য; কিন্তু মুসা নিজেই ভুলে গেছে এ উপাস্যের কথা।” (সুরা তহা, ২০ : ৮৮)

শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’-এ সম্ভবত পড়েছিলাম, শ্মশানে ভূতের ভয়ে মানুষ যায় না। রাত-বিরেত নাকি ভূতের সাড়া শোনা যায়। গল্পের চরিত্র গভীর রাতে সেখানে গেল। গা ছমছম করা পরিবেশ। গাছের ডালে পেঁচা ডাকছে; তাকিয়ে আছে ভয়ংকর চোখে। বাদুড় উড়ছে ডানা ঝাপটে। কেমন একটা শব্দ হচ্ছে, ভূতের শব্দ বলে প্রচারিত শব্দের মতন। গল্পের চরিত্র শব্দের উৎস খুঁজতে লাগল। পরিবেশ সহনীয় হয়ে আসার পর দেখা গেল, ভূতের শব্দ বলে মানুষ যে জিনিশটাকে ভয় পাচ্ছে, সেটা আসলে বাতাসে পাতার সঙ্গে পাতা লেগে তৈরি হওয়া একরকম শব্দ, নিস্তব্ধ (ভুতুড়ে) পরিবেশে কুসংস্কার-প্রিয় মানুষ যেটাকে ভূতের শব্দ বলে প্রচার করেছে এবং ভীতি সৃষ্টি করেছে।

সেই কাফিয়ার বছর কুরআন-তরজমার দরসে হুযুর আমাদের বলেছিলেন, মুসা আলাইহিস সালামের যুগের এই সামেরিও তার বানানো গরুর মূর্তি এমনভাবে রেখেছিল, বাতাস ঢুকে ভেতরের ফাঁপা জায়গায় একধরনের ভুতুড়ে শব্দ হতে লাগল। গোমরাহি-প্রিয় জাতি সেটাকে অলৌকিক ভেবে পূজা শুরু করে দিল।

“আর মূসার সম্প্রদায় বানিয়ে নিল তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদির দ্বারা একটি বাছুর, তা থেকে বেরুচ্ছিল হাম্বা শব্দ। তারা কি এটিও লক্ষ করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলছে না এবং তাদেরকে কোনো পথও বাতলে দিচ্ছে না? তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল! আসলে তারা ছিল বিপথগামী।” (সুরা আরাফ ৭ : ১৪৮)
বৌদ্ধধর্মের একটা অংশেও গরু গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যে ধর্মগ্রন্থ—ত্রিপিটক, অততকথা প্রভৃতি, এরও ঊর্ধ্বে নাকি একটা ঐশী গ্রন্থও ছিল। আকাশ থেকে ঈশ্বর সেটা গরুর মাধ্যমে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন; কিন্তু পথে গরুটার ক্ষিদে পেলে সে ওই গ্রন্থ খেয়ে ফেলল। এই কারণে বৌদ্ধদের এই বিশ্বাসধারীরা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে গরু থেকে এর প্রতিশোধ নেয়। গরুকে শক্ত করে বেঁধে তার গলায় ধারলো ছোরা মারা হয়। গরু ক্ষত হয়ে যে রক্ত বের হয়, এটা তারা খায়। এই বর্বরতায় অনেক সময় গরু মারা যায়।

ধর্মতত্ত্বের আলাপ করতে থাকলে গরু-রচনা শেষ করা দুষ্কর হয়ে যাবে। আজ যে ভারতে কথায় কথায় গরুর মল খাওয়ার প্রতিযোগিতা, হাস্যকর বক্তব্য, এসব তো পূর্বের সিলসিলা! হাদিস শরিফে এসেছে, বনি ইসসরাইলে যা যা ঘটেছে, কিয়ামতের আগে পৃথিবীতে তার পুনরাবৃত্তি হবে। বনি ইসরাইলিরা নবীগণকে মানেনি, কষ্ট দিয়েছে। এখনকার মানুষ রাসুলের ওয়ারিস আলিমদের মানে না, গালমন্দ করে! বনি ইসরাইল গরুর পূজা করেছে, আর কিছুদিনের মধ্যে হয়তো বাংলাদেশেও এই উৎসব শুরু হয়ে যাবে। মাআযাল্লাহ!

“অবশ্য যারা গরুর বাছুরকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের ওপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গজব ও লাঞ্ছনা এসে পড়বে।” (সুরা আরাফ ৭ : ১৫২)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap