আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

করোনা সংকট : দুই লাখ কওমি শিক্ষক বিপদগ্রস্ত

রশীদ জামীল, অতিথি লেখক :: এখন সারাবিশ্বে একটা ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে, সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনিতেই মাদরাসাগুলো শাবানের ১৫ তারিখের পর বন্ধ ঘোষণা করা হতো। কিন্তু এবার করোনার কারণে কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতির কারণে অনেকটা তড়িঘড়ি করে মাদরাসাগুলো বন্ধ দিতে হয়েছে। পরে আবার বন্ধের মেয়াদ বেড়েছে। আপাতত রমজানের আগে আর খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। এখন কী হবে?

আমাদের মাদরাসাগুলোর একাডেমিক বছর শুরু হয় শাওয়াল থেকে, শেষ হয় শাবান মাসে। তারপর রমজানের জন্য একমাস বন্ধ হয়। এই সময়ে পুরো বছরের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার একটা ব্যাপার থাকে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বেতন পরিশোধ করে দেয়। যারা পারে না, তারা কিছু দেয় কিছু বাকি থাকে। এখন যে দুইমাস আগে মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেল, এই অবস্থায় বাংলাদেশের দুই লক্ষাধিক কওমি উস্তাদের কী হবে?

এই অবস্থায় যে প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাববার দরকার ছিল কিন্তু কেউ ভাবছেন বলে মনে হচ্ছে না-
১. তাঁরা কি রজব এবং শাবান মাসের বেতন পাবেন?
২. যাদের কয়েক মাসের বেতন বাকি, তাঁদের কী অবস্থা?
৩. এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কি কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে?
৪. মাদরাসাগুলোরও কি সেই সামর্থ্য আছে? যদি না থাকে, তাহলে তাদের কী করা উচিত?
৫. এ ব্যাপারে আমাদের বোর্ডগুলোর কি কোনো মাথাব্যথা আছে, কিংবা কোনো দিক-নির্দেশনা?
৬. এমন ঘোরতর দুর্দিনে এই দুই লক্ষাধিক উস্তাদ যদি তাদের বেতন না পান, তাহলে তাদের পরিবার চলবে কী দিয়ে?

সবচে বড় কথা হলো, এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাববার মতো অথরাইজড কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকা। আমাদের কওমি শিক্ষাবোর্ডগুলো ছাত্রদের কাছ থেকে ফি আদায় করা এবং বছরে একটি করে কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা ছাড়া আর কোনো কাজ আছে বলে তারা মনে করেন কি না- আমরা জানি না। তাহলে সবমিলিয়ে অবস্থাটা কী দাঁড়াল?

সমাধানের পথ কী?
চলুন ভাবি, সাধ্যেরটুকু নিজেরা করি।
বাকিটা পরামর্শ দেই যথাস্থানে, যথাযথ বিনয়ের সঙ্গে

 

সৌজন্যে : barta24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap