আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

সিলেটে করোনা আক্রান্ত যুবক শামসুদ্দিনে ভর্তি

সিলহট রিপোর্টার :: সিলেটের খাদিমপাড়ায় শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া ‘পলাতক’ ওই যুবককে অবশেষে ‘পাকড়াও’ করে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোররাত ৪টায় তাকে শামসুদ্দিনে ভর্তি করানো হয়।

জানা গেছে, খাদিমপাড়ায় ৩৭ বছর বয়সের এক টমটম চালক যুবকের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। রবিবার রাতে খবর পেয়েই সে লুকিয়ে পড়ে। খাদিমপাড়ার টিকরপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়ি। সে শ্বশুরবাড়িতে থেকেই টমটম গাড়ি চালাতো।
এ বিষয়ে এসএমপির শাহপরাণ থানার ওসি মো. আব্দুল কাইয়ুম সোমবার সকালে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনতার সাহায্যে রবিবার মধ্যরাতে ওই যুবককে খুঁজে বের করা হয় এবং পরে তাকে শামসুদ্দিন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার বাড়িও খাদিমপাড়ায়। তবে সে টিকরপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে থেকে টমটম চালাতো।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানান, উপজেলা প্রশাসন ও শাহপরাণ থানাপুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনতার সাহায্যে ওই যুবককে খুঁজে বের করে সোমবার ভোররাত ৪টায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার শারিরীক অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে নয়। তাকে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি বলেন, তার শ্বশরবাড়ির মানুষজনকে হোম কোয়ারেন্টিন নীতিমালা মানার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে, রবিবার রাতে জানা যায়- সিলেটের খাদিমপাড়ায় যে যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে তার বাড়ি সেখানে নয়। খাদিমপাড়ার টিকরপাড়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। তবে করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি রবিবার রাতে টিকরপাড়ায় নেই বলে দাবি করেন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

কিন্তু করোনা শনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আক্রান্ত ওই ব্যক্তি টিকরপাড়াস্থ তার শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল মছব্বির।

এ বিষয়ে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আফসর আহমদ রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি টিকরপাড়ায় নয়। এখানে তার শ্বশুরবাড়ি। গত ৮-১০ দিন আগে তার মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে স্থানীয় মেম্বারসহ মুরুব্বিরা টিকরপাড়া থেকে তাকে নিজ বাড়িতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু এতোদিন তাকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও সে শ্বশুরবাড়িতেই ছিলো বলে স্থানীয়রা বলছেন। সে পেশায় একজন টমটম চালক। শ্বশুরবাড়িতে থেকেই টমটম চালাতো।

চেয়ারম্যান আফসর উদ্দিন আরো বলেন- রবিবার রাতে যখন জানাজানি হয় ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত, তখন থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন সে এখানে নেই। ধারণা করা হচ্ছে- তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লুকিয়ে রেখেছেন।

উল্লেখ্য, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাগারে যতজনের শরীরের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট রবিবার (১৯ এপ্রিল) প্রকাশ করা হয় তার মধ্যে ওই যুবকের রিপোর্টও ছিলো। রিপোর্টে যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ আসে। ৩৭ বছরের ওই যুবকের শরীরে গত বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাাসের উপসর্গ দেখা দিলে তার শরীরের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap