আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২২ ইং

সিলেটের হাওরাঞ্চলে এখনও শুরু হয়নি ধান কেনা

সিলহট রিপোর্টার :: সিলেট বিভাগের ৪টিসহ দেশের সাতটি জেলায় ৬০ ভাগ বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। কৃষকদের এখন ধান বিক্রির পালা। কারণ এই ধান বিক্রি করে শ্রমিকদেরকে টাকা দেবেন কৃষকরা। কিন্তু সুনামগঞ্জসহ সিলেটের হাওরাঞ্চলগুলোতে ধান কেনার পর্যাপ্ত বেপারি নেই। যারা ধান কিনছেন তারা জমি থেকেই চিকন ধান ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ এবং মোটা ধান ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা মণ নিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে এখনও সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে নির্দেশনা মোতাবেক ধান কেনা শুরু হয়নি। এ নিয়ে হাওরের সুনামগঞ্জে কৃষকদের মাঝে কিছুটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত রবিবার থেকে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ ১১ উপজেলায় ধান ক্রয় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, ফড়িয়া, টাউট ও মিলমালিকদের কম দামে ধান কেনার সুযোগ দিতেই তালিকা করতে বিলম্ব করে ধান ক্রয়ের দিন-তারিখ পেছানো হচ্ছে।

হাওরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, এক মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা। কিন্তু কৃষকরা প্রতিমণ ধান বিক্রি করছেন ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায়। ধান কাটার মজুর খরচ দেয়া, মহাজনের ঋণ শোধ করা এবং প্রতিদিন খরচের জন্য ধানের খলা থেকেই কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ প্রতিবছরের মতো এবারও নিচ্ছে ফড়িয়া, টাউটরা।

সুনামগঞ্জ জেলা ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ এ বিষয়ে বলেন, ২৬ এপ্রিল থেকে ধান ক্রয়ের নির্দেশনা ছিল। কৃষকরা হাওরের ধান কাটায় ব্যস্ত, এ কারণে কৃষকদের সুবিধার্থে ধান ক্রয় কিছুদিন পেছানো হয়েছে। তবে ৩০ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি ও যাচাই-বাছাই করে লটারির মাধ্যমে বাছাই করে সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এতে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। চলতি বছর একজন কৃষক তিন টন ধান দিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap