আজ ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

সিলেটে ৮৬ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ

ডেস্ক রিপোর্টার :: সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় ৩ মে পর্যন্ত ৮৬ ভাগ বোরো ধান কাটা হয়েছে। আর তিন-চার দিনের মধ্যেই হাওরের সব ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এবারে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, পাহাড়ি ঢল, আগাম বন্যা হওয়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসন হাওরের ধান কাটার ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

জানা গেছে, সিলেটের ৪টিসহ দেশের হাওরবেষ্টিত সাতটি জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টন, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ ভাগ। হাওরের ধান যেন এবার না হারাতে হয়, সে কারণেই প্রশাসনের এই গুরুত্ব। এর আগে বন্যায় হাওরের ধান ডুবে যাওয়ায় সেখানকার কৃষকরা যেমন দুর্ভোগে পড়েছিলেন, তেমনি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়নি সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনা ও বন্যার আশঙ্কায় হাওরাঞ্চলের ধান দ্রুত ঘরে তোলার জন্য সরকার সিলেটের ৪ জেলাসহ কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান কাটায় জরুরিভিত্তিতে ১৮০ কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৩৭টি রিপার সরবরাহ করে। বর্তমানে হাওরাঞ্চলে ৩৬২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও এক হাজার ৫৬টি রিপার কাজ করছে। এ ছাড়া সিলেটে ৪টিসহ সাত জেলায় হাওরের ধান কাটার জন্য ঢাকা এবং বিভিন্ন স্থাসের বেকার শ্রমিকদের কাজে লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক এনে দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সে কারণেই ইতোমধ্যে হাওরের ৮৬ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কন্ট্রোলরুমে দায়িত্বরত কৃষিবিদ বলেন, রোববার (৩ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত হাওরাঞ্চলে ৮৬ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আর সারাদেশে ধান কাটা হয়েছে ২১ ভাগ। তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে হাওরের ধান কেটে কৃষকের ঘরে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। আর তিন-চার দিনের মধ্যে হাওরের সব ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে।

উল্লেখ্য, এবার শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরের বোরো ধান যেন এবার কৃষকের গোলায় দ্রুত উঠে, সেজন্য কৃষিমন্ত্রীকে বারবার তাগাদা দিয়েছেন। কোথাও যেন কোনো শ্রমিক সংকট না হয়, সেজন্য তিনি শ্রমিক অধ্যুষিত জেলা প্রশাসকদের শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে নিদের্শ দেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় এই নির্দেশ পাওয়ার পরপরই দ্রুত কাজ শুরু করে। হাওরের ধান কাটার জন্য জরুরিভিত্তিতে মোট ৩৬২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও এক হাজার ৫৬টি রিপার দেয়া হয়। করোনার কারণে অন্য শ্রমিকদেরও সেখানে ধানকাটতে বাধ্য করা হয়।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও কৃষক লীদের নেতাকর্মীরাও কৃষকের ধান কেটে দেন। সব মিলিয়ে কোনো আপদ-বিপদ ছাড়াই ৮৬ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap