আজ [bangla_date], [english_date]

আমরা কার বিরুদ্ধে লড়ছি, কীভাবে লড়ছি?

চারদিকে করোনার থাবায় নিদারুণ মৃত্যু। দেশে লাশের মিছিলে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছেন ৫-১০-১৫ জন। কেউ স্বীকৃতি পাচ্ছে, কেউ না। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। স্বাস্থ্য বুলেটিনে যেদিন একজনের মৃত্যুর খবর দেয়া হল সেদিন সংবাদ মাধ্যমের খবর ছিল অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। বলা হচ্ছে স্বাস্থ্য বুলেটিনের বাইরে যারা মারা যাচ্ছেন তারা করোনায় মারা গেছেন তা বলা যাবে না। তার মানে কী? লোকজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও তালিকাভুক্ত হবে না?

এমনকি টেস্টের রেজাল্ট আসার আগেই অনেকেই মারা যাচ্ছেন। পরে দেখা যাচ্ছে তার শরীরে করোনা পজিটিভ ছিল। এখন দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে হাসপাতালে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও অনেকেই নথিভুক্ত হচ্ছেন না।
অনেক হাসপাতাল থেকে পরিবার পরিজনকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে ‘আপনার আত্মীয়’ মারা গেছেন। আমরা দাফন করে ফেলছি। এরা কি করোনায় মারা যাননি?

হাসপাতালগুলো এক অজ্ঞাত কারণে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্কুলার দিয়ে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিকিৎসক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এতে কী লাভ হচ্ছে বা হবে? আখেরে কোনো লাভ হবেনা।

একদিকে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠবে, সরকারের ভাল কাজ নিয়েও জনগণ প্রশ্ন তুলবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আমরা সহানুভূতি পাওয়ার সুযোগ হারাবো। একজন মানুষও মরুক না, এটা কে না চায়! কিন্তু অবিশ্বাসের একটি ধূম্রজাল তৈরি করে আমরা কি লাভ করবো?

করোনাতো বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়। বৈশ্বিক এ সমস্যা মোকাবিলায় আমরা যদি সফল হই তাহলে সবাই বাহবা দেবে। জাতিসংঘ প্রশংসা করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাতো মডেল হিসেবে বেছে নেবে। আর যদি ভুল তথ্যের মধ্যে সাফল্য বন্দি হয়ে যায় তখনতো সবই যাবে। আন্তর্জাতিক তদন্তের মধ্যে পড়ে যাব আমরা।

এমনিতেই সবকিছু খুলে দিয়ে আমরা মস্ত বড় ঝুঁকি নিয়েছি। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বলছেন এ কেমন কথা? যেখানে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সেখানে সবকিছু খুলে দেয়ার মধ্যে কী যুক্তি থাকতে পারে? মনে রাখতে হবে, যে সব দেশ খুলে দিয়েছে সেসব দেশ মৃত্যুর মিছিল থামিয়ে এ পথ বেছে নিয়েছে। ওসব দেশের সমস্যা আর বাংলাদেশের সমস্যা এক নয়। বাংলাদেশে করোনা এসেছে অনেক পরে। কামড়ও দিচ্ছে সবার শেষে।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন, সব ওপেন করে দিলে অসুবিধা হবে না। কিছু লোক মারা গেলেও যেতে পারে। এসব বিশেষজ্ঞের কেউ কেউ ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছিলেন বাংলাদেশে করোনা আসবে না।
আমরা ভয়ংকর একটি সংক্রমণ রোগের সঙ্গে লড়াই করছি। সামনে এগুতে হবে অত্যন্ত সুক্ষ্মাতি সুক্ষভাবে। আর এতেই জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap