আজ ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০শে মে, ২০২২ ইং

করোনা প্রতিরোধক ‘ডিসইনফেকশন টানেল’ সিলেটে তৈরি হলো মাত্র ৬ হাজার টাকায়!

  • মিজান আজিজ চৌধুরী সুইটের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

সিলহট রিপোর্টার :: সিলেটে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যয়বহুল ‘ডিসইনফেকশন টানেল’ বা ‘চেম্বার’ অত্যন্ত কম খরচে তৈরির যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন একজন মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি হচ্ছেন- মানতার সেবায় অবিরাম কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ‘আস্থা ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট।

৭ ফুট উচ্চতা আর ৫ ফুট প্রস্থের একটি টানেল বা চেম্বার। যার ভেতরে ঢুকলে চারপাশ থেকে শরীরে স্প্রে হবে জলমিশ্রিত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট। হালকা কুয়াশার মতো গায়ে এসে লাগবে এই মিশ্রণ। ৪-৫ সেকেন্ড, সেই টানেল বা বক্সে ঢুকা ব্যক্তি জীবাণুমুক্ত হয়ে বের হবেন সেখান থেকে। এর নামই ‘ডিসইনফেকশন টানেল’ বা ‘ডিসইনফেকশন চেম্বার’। আর সেটিই তার নিজস্ব কারখানায় তৈরি করলেন জনদরদি মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট।

জানা গেছে, মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট সিলেট শহরতলির এয়ারপোর্ট এলাকার নিজস্ব ওয়ার্কশপে করোনা প্রতিরোধক এই ‘ডিসইনফেকশন টানেল’ তৈরির কাজ শুরু করেছেন দুই সপ্তাহ আগে। এ পর্যন্ত তিনি ৬০ টি টানেলের বডি তৈরি করে ফেলেছেন। এর মধ্যে সম্পূর্ণ তৈরি হয়েছে ৬ টি। এগুলোতে স্প্রে করার জীনাণুনাশক যে ওষুধ, তা আজ শনিবার (১৬ মে) পরীক্ষা করা হবে। আজ পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে কাল থেকেই এই ৬টি টানেল ব্যবহারের সম্পূর্ণ উপযোগী হয়ে যাবে। এগুলো তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি ছোট ঘরের আদলে।

মিজান আজিজ চৌধুরী সুইটের ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা যায়, ৮-১০ জন কারিগর তার নির্দেশনায় রাত-দিন কাজ করছেন এই টানেলগুলো তৈরি করতে। ৭ ফুট উচ্চতা আর ৫ ফুট প্রস্থের স্টিলের পাত দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে একেকটি টানেল বা চেম্বার। প্রত্যেক চেম্বারে পাইপের মাধ্যমে ১০টি নজেল (মুখ) স্থাপন করা হয়েছে। এই চেম্বারে কেউ ঢুকলে সেই ১০টি নজেল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একযোগে স্প্রে হবে জীবাণুনাশক ওষুধ। স্বয়ংক্রিয় ছাড়াও সুইচের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি এগুলো অপারেট করা যাবে।

এ বিষয়ে মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট বলেন, আমি যখন ফলো করলাম যে- ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে এমন টানেল ব্যবহার করে সুফল মিলছে। তাহলে আমাদের এটি ফলো করা দরকার। কিন্তু বিদেশ থেকে আনতে গেলে সেগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই আমি চিন্তা করলাম- আমরা নিজেরাই যদি বানাতে পারি তবে সেটি আর বিদেশ থেকে আনতে যাবো কেনো? আর আমরা নিজের তৈরি করতে পারলে খরচও খুব কম পড়বে।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আনতে গেলে এসব একেকটি টানেল বা চেম্বারের দাম পড়বে ৩-৪ লাখ টাকা। কিন্তু আমি মাত্র ৬হাজার টাকায় এটি সরবরাহ করবো কেউ নিতে চাইলে। শুধু খরচটাই এখানে ধরা হবে। কোনো লাভের চিন্তা করা হবে না। করোনা পরিস্থিতিতে মানবতার সেবায় এটুকু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবো। তবে প্রথমে আমাদের সিলেটের চাহিদা মিটিয়েই অন্যত্র সরবরাহের চিন্তা করা হবে।

মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট জানান, প্রথমে এরকম ৬০টি টানেল বা চেম্বার আমরা সিলেটের দরগাহ মাজার, শাহপরাণ মাজার, বড় বড় মসজিদসহ সিলেটে গণজমায়েতপূর্ণ ৬০টি স্থানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্থাপন করে দেবো। সেটি করা হবে আস্থা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে।

তিনি জানালেন, প্রথমে প্রস্তুতকৃত ৬টি টানেল আমরা ২/১ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্থাপন করে দেবো। এর মধ্যে সিলেটের করোনা হসপিটাল খ্যাত ডা. শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল, শাহজালাল মাজার গেইট, শাহপরান মাজার গেইট, সিটি কর্পোরেশন, রাম কৃষ্ণ মিশন গেইট ও লোকনাথ আশ্রমের গেইটে স্থাপন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap