আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

‘অবশেষে পেলাম ফরাসি জাতীয়তা’

লুবনা সাবা, প্যারিস থেকে

আমার ফরাসি জাতীয়তা যখন নামঞ্জুর হলো ঠিক সেই সময় এক সেবিকা ও আমাকে নিয়ে দেশটির জাতীয় টেলিভিশন ছাড়াও গণমাধ্যমগুলোতে বেশ বড় করেই খবর ছাপিয়েছিল ‘কর্মঘণ্টা আইন লঙ্ঘন করায় ফরাসী জাতীয়তা নামঞ্জুর’। কিন্তু আমি ফরাসি কর্মঘণ্টা আইনের বাইরে ১ মিনিটেরও বেশি কাজ করিনি। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

ইচ্ছে করলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে উকিল নিতে পারতাম (রায় আমার পক্ষে হলে উকিলের টাকা ফ্রান্স সরকার পরিশোধ করবে) কিন্তু আমি পৌরসভার সরকারি উকিলের সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে বলে দিলেন; যেন এক বছরের দুই কাজের পে রিসিটসহ মাসে কত ঘণ্টা কাজ করি তার সত্যায়িত কপি মিনিস্ট্রিতে রেজিস্ট্রি করে চিঠি পাঠাই এবং লিখিতভাবে যেন আমার ফাইল পুনরায় ভেরিফাই করার অনুরোধ করি।

ফ্রান্সে আমার কর্মজীবন

অফিসিয়াল পত্র লেখার অভিজ্ঞতা আমার নেই তাই এখানেও আশ্রয় নিলাম পারিশ্রমিক ছাড়া সেবাদান করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে। অভিজ্ঞ এক লেখিকার মাধ্যমে বিস্তারিত লিখে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যোগ করে আমার কর্মঘণ্টা যাচাই করার অনুরোধ করলাম।

রেজিস্ট্রি চিঠি দেয়ার প্রায় তিনমাস পর তারা আমার ফাইল পুনরায় ভেরিফাই করার জন্য আশ্বাস দিলেন এবং আমার কাছে বিগত ১২ মাসের পে রিসিট চেয়ে রেজিস্ট্রি চিঠি পাঠাল। ১২ মাসের পে রিসিট এবং সাথে মাসে কত ঘণ্টা কাজ করি তার একটি লিখিত ডকুমেন্ট পুনরায় পাঠালাম।

আবার ৩ মাসের মতো অপেক্ষা করার পর রেজিস্ট্রি চিঠি হাতে পাই। তাতে উল্লেখ ছিল, এই চিঠি পাওয়ার ২ মাসের ভেতর আমি যেন সর্বশেষ তিন মাসের বেতনের রশিদ তাদের কাচে পাঠাই আর সাথে তাদের পাঠানো শেষ পেপারও। আমার পক্ষ থেকে উত্তর পাওয়া মাত্রই তারা দ্রুতগতিতে ফাইল ফাইনালি ভেরিফাই করার ব্যবস্থা নেবেন। এখানেও আমি তাদের সর্বশেষ অনুরোধ রক্ষা করি এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র পাঠিয়ে দেই এবং অপেক্ষা করতে থাকি।

মাসের পর মাস অপেক্ষা (৫-৬ মাস) করার পর ২০২০ এর জানুয়ারির দুই তারিখে মেইল আসে যেখানে আমার কাছে আরও একটি ডকুমেন্ট চাওয়া হয়। এসব কাগজপত্র দিলেই তারা আমার ফরাসি জাতীয়তা তৈরি করবে। অর্থাৎ তাদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আমার জয় হয়েছে। তবে এর জন্য আমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে এবং গুণতে হয়েছে অনেক তিক্ত প্রহর।

যে কারণে আমার ফরাসি জাতীয়তা নামঞ্জুর

এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে নেই যারা ফরাসি জাতীয়তার আবেদন করবেন বা করে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা যেন তাদের কর্ম ঘণ্টা আবেদন নিয়মিত রাখবেন। একাধিকবার বেতনের রশিদ চেয়ে থাকেন যা ঠিকমত দিতে না পারলে ফরাসি জাতীয়তা নামঞ্জুর করে দেয়। আমার পরিচিত একটা পরিবার ফরাসি জাতীয়তা আবেদন করে ইন্টারভিউ দিয়ে তারা কাজের ঘণ্টা কমিয়ে সরকারি সুবিধায় ছিলেন। দ্বিতীয় দফায় ফাইল ভেরিফাই করতে যখন তাদের কাছে শেষ তিনমাসের বেতনের রশিদ চেয়েছিল তারা দিতে পারেননি সেই কারণে তাদের দেশটির জাতীয়তা নামঞ্জুর হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap