আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

সিলেটে দফায় দফায় পরিবহন শ্রমিদকের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, বাস টার্মিনাল উত্তপ্ত

সিলহট রিপোর্টার :: দক্ষিণ সুরমায় উত্তপ্ত সিলেট কেন্দ্রীয় টার্মিনালে পরিহন শ্রমিকদের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২ বিকাল পৌনে ৬টার দিকে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পরিবহন শ্রমিকদের দু’টি পক্ষ।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিককে কেন্দ্র করেই মূলত এ সংঘর্ষ। মঙ্গলবার বিকালে প্রথম দফার সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে আরো ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ দফায় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

জানা গেছে, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় দুই কোটি টাকা সেলিম আহমদ ফলিক আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ টাকার কোনো হিসাবও তিনি দিতে পারছেন বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তারা ফলিকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, ঈদের আগে কল্যাণ তহবিলের টাকা থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী প্রেরণের দাবি জানিয়েছিলেন কয়েকজন শ্রমিক নেতা। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক এতে রাজি হননি। পরে তার কাছে তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকার হিসাব চাওয়া হলে তিনি ৪১ লাখ টাকার হিসাব দেন।

এ প্রসঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন ‘মিতালী শ্রমিক ইউনিয়নে’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিলাদ আহমদ রিয়াদ বলেন, ‘শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা থাকার কথা। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক আমাদের হিসাব দিয়েছেন মাত্র ৪১ লাখ টাকার। বাকি ২ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের পুরো টাকার হিসাব না দিলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।’

এদিকে, ফলিকের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকদের একটি পক্ষের এই আন্দোলনে অপর পক্ষও (ফলিকের অনুসারী) মাঠে নামে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আজ মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৫০ জন। ভাঙচুর করা হয় মিতালী পরিবহনের একটি বাস ও এনা পরিবহনের কাউন্টার। ওই সময় পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও র‌্যাব ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এর পর দেড় ঘন্টা পর, মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় আবারও উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির মতো একপক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।

এ সময় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল।

তিনি জানান, পুলিশ উভয়পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে দু’পক্ষের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap