আজ ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুন, ২০২২ ইং

করোনা : সিলেটকে আলো দেখাচ্ছে কিডনি ফাউন্ডেশন! ৩টি চিকিৎসালয় স্থাপনের উদ্যোগ

সিলহট রিপোর্টার :: সিলেটে ৩টি করোনা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন। সিলেট শহরতলির খাদিমনগরস্থ সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট নগরের আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে- এই ৩টি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে।

এর মধ্যে সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু করা হবে। এই আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে ডাক্তার নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেবে সরকার। আর অক্সিজেন সাপ্লাই, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং যাবতীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রদান করবে সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন।

সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ রোটারিয়ান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান- মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ডা. শামসু্দ্দিনের পুত্র, সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমদের একক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিলেটের এই ৩টি হাসপাতালে সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের ব্যাপারে ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন ও সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খাদিমনগরস্থ সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। তারা সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনে কী কী সরঞ্জাম প্রয়োজন- তার তালিকা প্রস্তুত করেছেন। দু-একদিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে আগামী সপ্তাহেই সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে করোনা আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে জানান পরিদর্শনকারীরা।

জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মেজর (অব.) আব্দুস সালাম ও সাবেক উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা চৌধুরী মুফাদ আহমদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তারা দু’জনে সরকারের উর্ধ্বতন মহলে আলোচনা করে এই ৩টি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সিলেটে প্রেরণের ব্যবস্থা করছেন।

তিনি জানান, কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৩টি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন ও এগুলো পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদের পুত্র ডা.জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের দানশীল ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে ১ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে এক ব্যক্তিই দান করেছেন ৪০ হাজার ডলার। সিলেটে এবং সিলেটের বাইরের দানশীল ব্যক্তিদের দেয়া দান-অনুদানে এ আইসোলেশন সেন্টারগুলো পরিচালিত হবে।

জুবায়ের আহমদ চৌধুরী আরো জানান, আগামী সপ্তাহে খাদিমনগরে সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পর পরই দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে রূপান্তর করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগস্থ আব্দুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে। আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে করোনা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অক্সিজেন দেয়া হবে। আর যাদের ভেন্টিলেশন সাপোর্ট লাগবে তাদেরকে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপতালে পাঠানো হবে।

এদিকে, সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের এমন মহতি উদ্যোগে সিলেটবাসীর মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। কিছুদিন আগে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মাউন্ট এডোরা হসপিটালকে সরকারিভাবে করোনা আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তরের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েও শেষপর্যন্ত তা সফলতার মুখ দেখেনি। সিলেটে করোনার ভয়াবহ বিস্তারের কঠিন এই সময়ে এ ঘটনায় সিলেটবাসী হয়ে পড়ে চরম হতাশ। কিন্তু কিডনি ফাউন্ডেশন এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করায় সিলেটবাসী যেন স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলার অবকাশ পেলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap