আজ ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুন, ২০২২ ইং

বেগুনের কম দামে চাষিরা হতাশ

ডেস্ক রিপোর্টার

চলতি মাসে যশোরের শার্শা উপজেলায় বেগুন চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। এছাড়া চলতি মৌসুমে বেগুনে পোকার আক্রমণের সাথে সাথে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার করায় খরচ ও লোকসানের ভাগ বেশি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

সাদা পোকা (হোয়াইট ফ্লাই) পাতার রস শুষে নেওয়ায় পাতা কুঁকড়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নলি পোকা বেগুনের মধ্যে ছিদ্র করে ঢুকে পড়ছে। এ অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন চাষিরা। তাতে মানুষের শরীরে রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজারের কীটনাশকের বিষাক্ততা কৌটার গায়ে লাল, নীল, হলুদ ও সবুজ চিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করা থাকে। লাল হীরক চিহ্ন মানে সেটির ব্যবহার সীমাবদ্ধ। হলুদ, নীল, সবুজ মানে সেটি নিরাপদ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে চাষিরা লোকসানের আশঙ্কায় বিষাক্ত কীটনাশকগুলোই ব্যবহার করেন। এ ধরনের কীটনাশকের বিষক্রিয়া বেগুন ও অন্য সবজির মধ্যে অন্তত ১৫ দিন থেকে ৬ সপ্তাহ থাকে। এ সময়ের মধ্যে সেই সবজি বাজারে বিক্রি করলে, তা খেয়ে অসুস্থ হতে পারেন লোকজন।

চাষিরা বলেন, ‘কীটনাশকে কতটা বিষ, তা নিয়ে গবেষকরা ভাবুক। এখন বেগুনে পোকার আক্রমণ। তার মধ্যে বাজারে তিন দিন আগে বেগুন পাইকারি ৩-৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৬-৮ টাকা কেজিতে। কীটনাশক ব্যবহারে অনেক খরচ। সব মিলিয়ে আমরা খুব হতাশায় পড়েছি।’

চাষিরা আরও বলেন, ‘বেগুন খোলা বাজারে ১৫-২০ টাকা কেজি হলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ৬-৮ টাকা। আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে তারা উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। অথচ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমরা সবজি উৎপাদন করে লসের মধ্যে আছি। ন্যায্য দামটুকু পাচ্ছি না।’

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল বলেন, ‘কীটনাশক ব্যবহার নিয়ে যতটা অজ্ঞতা সবজি চাষে আছে, তা অন্য কোনো চাষে নেই। এ নিয়ে চাষিরা সচেতন না হলে ফসলের রোগ আটকাতে গিয়ে মানুষের শরীরে ভয়ঙ্কর বিষ ছড়াবে। এখনো বহু চাষি তা বুঝতে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বিষযুক্ত বেগুন কিনে বাড়িতে ফুটানো পানিতে লবণ মিশিয়ে ১৫ থেকে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে প্রায় ৯০ শতাংশ বিষমুক্ত হতে পারে। চলতি মৌসুমে যশোরের শার্শায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap