আজ ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

করোনায় মৃত্যুতে সারা দেশকে পেছনে ফেললো সিলেট!

ডেস্ক রিপোর্টার :: সিলেটে করোনা আক্রান্তের সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। মরণঘাতি নভেল করোনাভাইরাস প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। মৃত্যুর দিক থেকে এখন সারাদেশ থেকে এগিয়ে সিলেট। সারাদেশের গড় মৃত্যুর হারের চেয়ে সিলেটে মৃত্যুর হার প্রায় দ্বিগুণ। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন এজন্য আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা এবং শুরুতে হাসপাতালে শরণাপন্ন না হওয়াকে দায়ি করছেন। এছাড়া সুস্থ্যতার দিক দিয়েও পিছিয়ে রয়েছে সিলেট জেলা। সিলেটের চেয়ে সারাদেশের সুস্থতার গড় হার প্রায় দ্বিগুণ।

সিলেটে সর্বপ্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয় ৫ এপ্রিল। প্রথম রোগী ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। সিলেট থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে গত ১৫ এপ্রিল কুর্মিটোলা হাপসাতালে তিনি মারা যান। আর সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যান গত ২৫ এপ্রিল। এরপর গত এক মাস ২০ দিনে সিলেটের একমাত্র করোনা হাসপাতাল শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৪০ জনেরও বেশী। শুরুর দিকে মৃত্যুর হার কম থাকলেও এখন প্রতিদিনই একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। করোনা আক্রান্তের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী মমঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সিলেট জেলায় করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৫ জন। আর আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৫৪ জন। আক্রান্ত বিবেচনায় শতকরা মৃত্যুর হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬১। এদিকে, আইইডিসিআর’র তথ্য অনুযায়ী আক্রান্ত বিবেচনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত সারাদেশের গড় মৃত্যুর হার ছিল শতকরা ১ দশমিক ৩৪। অর্থাৎ সারাদেশের তুলনায় সিলেটের গড় মৃত্যুর হার ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। সুস্থ্যতার দিক দিয়েও পিছিয়ে রয়েছে সিলেট জেলা। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট জেলায় সুস্থ হয়েছেন ১৫৪ জন করোনা রোগী। আক্রান্ত বিবেচনায় সিলেট জেলায় সুস্থ্য হওয়ার হার শতকরা ১৩ দশমিক ১১ ভাগ। কিন্তু আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে সুস্থতার হার ছিল ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যা সিলেটের সুস্থতার হারের চেয়ে প্রায় তিনগুণ।

সিলেট জেলায় সুস্থ্যতার হার কম ও মৃত্যুর হার বেশি হলেও বিভাগের অন্য তিন জেলার চিত্র ভিন্ন। এখন পর্যন্ত বিভাগের বাকি তিন জেলার প্রতিটিতে মারা গেছেন ৪ জন করে। বাকি তিন জেলার মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম সুনামগঞ্জে। এ পর্যন্ত ৬৪১ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন মাত্র ৪ জন। ফলে সুনামগঞ্জের মৃত্যুর হার শতকরা দশমিক ৬২। এছাড়া হবিগঞ্জে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৩ ও মৌলভীবাজারে ১ দশমিক ৮৬।

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলায় করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬১২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন মোট ৫৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৫৯ জন। আক্রান্ত বিবেচনায় সিলেট বিভাগের সুস্থ্যতার হার ২১ দশমিক ৪০ ও মৃত্যু হার ২ দশমিক শূণ্য ৬।

মৃত্যুর হার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, ‘সিলেটে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তিও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তারা অনেক দেরি করে চিকিৎসা শুরু করছেন। হাসপাতালে আসতেও দেরি করছেন। তাই মৃত্যুর হার বেশি। অনেকে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘন্টার মধ্যে মারা যাচ্ছেন। মৃত্যুর পর তাদের পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ সচেতন হলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হতো।

 

খবরসূত্র : সিলেটভিউ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap