আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২২ ইং

আশঙ্কাজনক হারে কমেছে সিলেটের চা-পাতা বিক্রি

ডেস্ক রিপোর্টার :: দেশের বাজারে কমেছে সিলেটের চায়ের ক্রেতা। বাংলাদেশে চায়ের বড় ক্রেতা টং দোকান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ। মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মার্চের ২৬ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সব বন্ধ ছিল। এখন দোকান খুললেও বিক্রি আগের মতো নেই। মানুষ দোকানে এসে চা কম খাচ্ছে। ফলে আশঙ্কাজনক হারে চা বিক্রি কমে গেছে। আর বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে চায়ের পাতা।

জানা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের চাহিদা বছরে ৯ কোটি কেজি। ২০১০ সাল থেকে এ চাহিদা পূরণ করতে চা আমদানি শুরু হয়। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ এক কোটি ১৪ লাখ কেজি চা আমদানি হয়। ২০১৬ সালে আট কোটি ৫০ লাখ কেজি রেকর্ড উৎপাদন করে চায়ের চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ।

গত বছর (২০১৯ সাল) চা শিল্প ১৬৫ বছরের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়ে। বছরটিতে রেকর্ড ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। তার আগের বছর ২০১৮ সালে দেশে ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে চায়ের উৎপাদন ১৪০ মিলিয়ন বা ১৪ কোটি কেজিতে উন্নীত করতে কাজ করছে চা বোর্ড।

চায়ের উৎপাদন ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে চা রফতানি করে কিছু আয়ও হচ্ছে। চা রফতানি করে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। দেশ স্বাধীনের সময় দেশে চা বাগানের সংখ্যা ছিল ১৫০টি। তখন তিন কোটি কেজির মতো চা উৎপাদন হত।

বর্তমানে সারাদেশে বিদেশি কোম্পানি, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ছোট-বড় মিলিয়ে চা বাগানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬টি। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে রয়েছে ৯২টি চা বাগান। বাকিগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৪টি, সিলেটে ১৯টি, চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে সাতটি, রাঙ্গামাটিতে দুটি ও ঠাকুরগাঁওয়ে একটি। এসব বাগানে মোট জমির পরিমাণ দুই লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ একর।

এদিকে গত বছর রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনের পরও চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কম ধরা হয়েছে। গত বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ মিলিয়ন বা ৮ কোটি কেজি। চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার কেজি।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত) উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৪৬ হাজার কেজি। গত বছর প্রথম পাঁচ মাসে উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ৬২ লাখ ৮১ হাজার কেজি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের বিপণন কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, গত মৌসুমে (এপ্রিল ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২০) চট্টগ্রাম এবং শ্রীমঙ্গলের ৪৫টি নিলামে চা বিক্রি হয়েছে ৯০.৪৪ মিলিয়ন কেজি। যার গড় দাম ছিল ১৭৬.০৮ টাকা। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ছয়টি এবং শ্রীমঙ্গলে তিনটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্রি হয়েছে ৬.৬৬ মিলিয়ন কেজি। গত বছরের চেয়ে এ বছর চায়ের দামও কমেছে।

টি প্লান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিপিটিএবি) সদস্যসচিব জহর তরফদার বলেন, এ বছর আমাদের শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেদ্রে ২০টি নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এখন পর্যন্ত তিনটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নিলামে ১৮ হাজার ৭০০ কেজি চা বিক্রি হয়েছে। ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কম থাকায় কমেছে চায়ের দামও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap