আজ [bangla_date], [english_date]

গোলাপগঞ্জে আবারও কাউন্সিলর হতে চান ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জামিল!

সিহলট রিপোর্টার :: সিলেটের গোলাপগঞ্জে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ২ নং ওয়ার্ডে আবারও কাউন্সিলর হতে চান ১৬টি মামলার আসামি বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া চৌধুরী জামিল। তিনি বর্তমান কাউন্সিলর ও মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তবে নির্বাচনি হলফনামায় জামিল মাত্র ৫টি মামলার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া এই মাদক মামলাসহ বাকি মামলাগুলোর তথ্য গোপন করেছেন।

এদিকে, মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবারও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ায় এবং দিনে-দুপুরে নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারায় পৌর এলাকাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। এ পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩ জানুয়ারি মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৫ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছেন ২ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া চৌধুরী জামিল। তিনি ১৬টি মামলার আসামি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মামলা আদালতে বিচরাধীন এবং একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি তিনি।

অভিযোগ রয়েছে- বিগত সময়গুলোতে সরকাবিরোধী জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনগুলোতে গোলাপগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে নাশকতা কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এ অভিযোগে নাশকতার মামলায় ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও জামিলের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক নাশকতা মামলা। যার মধ্যে মাত্র ৫টির কথা তিনি তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন এবং বাকিগুলো পোপন করেছেন।

জানা গেছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়েরকৃত মাদক মামলায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটের ৫ নং আসামি হচ্ছেন গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত পিতা আখলাকুল আম্বিয়া চৌধুরীর ছেলে নুরুল আম্বিয়া চৌধুরী জামিল। চার্জশিটে তাকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় জামিল দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি এখন পর্যন্ত ওই মামলায় পলাতক আসামি।

গোলাপগঞ্জ থানাপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জামিলের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ইতোমধ্যে গোলাপগঞ্জ থানায় এসে পৌঁছেছে।

এদিকে, জামিল মাদক মামলার আসামি থাকা সত্তেও এসব তথ্য গোপন করে আবারও হয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী। প্রতিদিনই নির্বিঘ্নে চষে বেড়াচ্ছেন পৌর এলাকা। এ নিয়ে পৌর ঐলাকার সচেতন মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়।
এলাকার সচেতন মানুষ প্রশ্ন তুলছেন- মাদক মামলায় পলাতক আসামির কাছে ওয়ার্ডের মানুষের জান-মাল কতটুকু নিরাপদ? এছাড়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এভাবে অবাধে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারায় বিস্ময় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

হলনামায় তথ্য গোপনের বিষয়টি স্বীকার করে নুরুল আম্বিয়া চৌধুরী জামিল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘হলফনামা দাখিলের আগে মামলার বিষয়টি জানতাম না। পরে জানতে পেরেছি।’
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতে জামিন আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে।’

জামিলেরর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনও অবগত নই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে ওয়ারেন্ট গোলাপগঞ্জ থানায় এসেছে কি-না।

হলনফনামায় তথ্য গোপনের বিষয়ে সিলেট জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ফয়সল কাদের বলেন, কোনো প্রার্থীই তাদের মামলা সংক্রান্ত তথ্য হলনফনামায় গোপন করতে পারেন না। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার প্রার্থীতা বাতিল হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কিছু নিয়ম আছে। মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ তারিখের পর তিন দিনের সময় দেয়া হয় আপিলের জন্য। এই তিন দিনের ভেতরে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মে জেলা প্রশাসনের আপিল বিভাগে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

তিনি বলেন, নুরুল আম্বিয়া চৌধুরী জামিলের তথ্য গোপন করার বিষয়টি এই তিনদিনের ভেতরে কেউ আমাদের জানায়নি। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap