আজ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মে, ২০২২ ইং

প্রতিরাতে উত্তেজক বড়ি খেয়ে স্বামীকে ‘যৌন নির্যাতন’ করতেন মৌসুমী!

সিলহট রিপোর্টার :: প্রতিরাতে যৌন উত্তেজক বড়ি খেয়ে স্বামীকে একরকম নির্যাতন করতেন তিনি। স্বামীকেও চাপাচাপি করতেন এসব ওষুধ খেয়ে তার সঙ্গে উন্মাদনায় মেতে উঠতে। কিন্তু স্বামী ধার্মিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় যৌন উত্তেজক এসব বড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন। যা পছন্দ হতো না তার।

বলছি যার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই প্রথম ও দ্বিতীয় স্বামীর- সেই প্রবাসী সুন্দরী নারী শারমিন সুরভী মৌসুমীর কথা। মৌসুমীর বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট চুনাহাটি গ্রামে। স্থায়ীভাবে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

অভিযোগ রয়েছে- মার্কিন নাগরিকত্ব এবং নিজের রূপকে কাজে লাগিয়ে বিয়ের নামে একের পর এক প্রতারণা করে যাচ্ছেন মৌসুমী। বিয়েকে পুঁজি করে স্বামীদের কাছ থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়াই সে ও তার বাবা-মার নেশা।

জানা গেছে, ২০১২ সালে মৌসুমীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল এক চিকিৎসকের সঙ্গে। তাদের ৫ বছর বয়সের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। অপবাদ দিয়ে সে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়ে মামলা-হয়রানি করে ওই স্বামীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অংকের টাকা।

পরবর্তীতে আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে কুমারি সেজে ২০২০ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ভাদেশ্বর দক্ষিণভাগ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে জাকের আহমদকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মৌসুমী। দ্বিতীয় বিয়ের পর নতুন বরপক্ষের কাছ থেকেও স্বর্ণ, কাবিননামা ও অনলাইন শপিংয়ের নামে আত্মসাত করেছেন বড় অংকের টাকা।

এখন অজুহাত খুঁজছেন ওই বরের সঙ্গেও বিবাহবিচ্ছেদের। এ স্বামীর কাছ থেকেও হাতিয়ে নিতে চাচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। এ লক্ষ্যে আশ্রয় নিয়েছেন নানা কৌশল ও প্রতারণার। স্বামীর প্রতি তুলেছেন পুরুষত্বহীনতার মিথ্যা অভিযোগ। পরবর্তীতে ডাক্তারি পরীক্ষায় সে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

পূর্ববর্তী বিয়ের তথ্য গোপনসহ স্ত্রীর সকল প্রতারণা বুঝতে পেরে জাকের আহমদ মৌসুমী ও তার বাবা-মায়ের নাম উল্লেখ করে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এরপর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেন মামলাটি এফআইআর পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। সিলেট এসএমপির বিমানবন্দর থানায় মামলাটি (নং ৭(২)২১) দাখিল করা হয়। মামলাটি বিচারাধীন।

মামলার আসামিরা হলেন, সিলেটের জৈন্তাপুর থানার নিজপাট চুনাহাটি গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে রফিকুর আর এম এ মুনিম (৫০), তার স্ত্রী ইমামা বেগম চৌধুরী (৪৫) ও শারমীন সুরভী মৌসুমী (৩১)।

জাকের আহমদ তার মামলায় উল্লেখ করেছেন, তিনি সাইপ্রাস প্রবাসী। ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি দেশে এলে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট ৭ নম্বর লেনের ৫৬ নম্বর বাসায় মৌসুমীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তখন কন্যার বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের ১৩ দিন পর মৌসুমী তার মা-বাবাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

তখন বরের বাবা-মাকে বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে জাকেরকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর মৌসুমী ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন জাকেরের সঙ্গে। গত বছরের ২১ নভেম্বর মৌসুমী ফোন করে জাকেরকে বলেন, তোমাকে আমেরিকা আনতে হলে ২৫ লাখ টাকা লাগবে। অন্যথায় আনা যাবে না। তখন জাকের তার মা-বাবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। জাকেরের মা-বাবা বলেন, এতো টাকা দিয়ে আমেরিকা যাওয়ার দরকার নেই।

এর চেয়ে সাইপ্রাস ছিলে, সেখানে চলে যাও। সাইপ্রাস থেকে পরে আমেরিকা যাবে। পরে মৌসুমী ২৫ নভেম্বর ফোন করে বলেন, দেশে এলে তাকে নিয়ে উপশহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হবে। সে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকবে না। এই কথায় রাজি হননি জাকের। তখন মৌসুমীর মা ফোনের মাধ্যমে বলেন, তার মেয়ের কথা না শুনলে, বিয়ের সম্পর্ক রাখা যাবে না।

এরপর ২৮ ডিসেম্বর মৌসুমীর গ্রামের বাড়ি জৈন্তাপুরে গিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের স্বামীপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তখন জানতে পারেন, মৌসুমীর মা-বাবা ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার পৃথিমপাশা সুজাপুর গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছেলে ডা. মো. ফরিদ আহমদের সঙ্গে মৌসুমীর বিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ের পর ২০১৫ সালের ৩ মার্চ একটি ছেলেসন্তান জন্মে।

এ খবর পেয়ে প্রথম স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন দ্বিতীয় স্বামী জাকের। বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তখন প্রথম স্বামী জাকেরকে বলেন, তার সঙ্গে বিয়ের পর ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই মৌসুমী বাদী হয়ে মোহরানার জন্য সিলেটের জৈন্তাপুর পারিবারিক আদালতে (মামলা নং৩৯/১৮) মামলা দাখিল করেন। যা গত বছরের ১৫ মার্চ সোলেনামা দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। মৌসুমী ও তার বাবা-মা প্রতারক। নিরীহ লোকদেরকে প্রতারণার জালে ফেলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াই তাদের মূল কাজ।

জাকের তার মামলায় আরও উল্লেখ করেন, তার সঙ্গে মৌসুমীর বিয়ের জন্য উভয়পক্ষের আলোচনায় ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণ ও দেনমোহর বাবদ ৬ লাখ টাকা মু’আজ্জল রেখে কাবিন সাব্যস্তে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কাবিননামা তুলে দেখা যায়, সেখানে ২১ লাখ টাকার কাবিননামা ও ১ লাখ টাকা স্বর্ণালঙ্কার বাবদ পরিশোধ দেখানো হয়েছে। তাছাড়া প্রথম বিয়ে গোপন রেখে কুমারি সেজে বিয়ে হয়েছে। যা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐ চিকিৎসকের সঙ্গে বিয়ের কাবিননামায় জৈন্তাপুরের বাপের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার না করে মৌসুমী মুসলিম কোয়ার্টার হবিগঞ্জ সদরের ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।

জাকের আহমদের দুলাভাই সোহেল আহমদ দৈনিক সিলহটকে বলেন, তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেছেন এবং প্রথম বিয়ে গোপন করেছেন মৌসুমী। তারা বিষয়টি জানতে পেরে তার শ্যালক (জাকের) বাদি হয়ে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (এয়ারপোর্ট সিআর মামলা নং১১/২১ ইং) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এফআইআর গণ্যের আদেশ দেন।

মৌসুমীর প্রতারণার শিকার জাকের আহমদ দৈনিক সিলহটকে জানান, বিয়ের পরে দেশে তার সঙ্গে মাত্র ১০ রাত অতিবাহিত করেছেন মৌসুমী। কিন্তু প্রতিরাতেই মৌসুমী কীসব যৌন উত্তেজক বড়ি খেয়ে তার সঙ্গে অসুস্থ খেলায় মেতে উঠতে বলতেন। তিনি ধার্মিক পরিবারের সন্তান এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এসব ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন। এতে মৌসুমী ক্ষিপ্ত হয়ে জাকেরকে বিছানায় একরকম নির্যাতন করতেন। পরবর্তীতে জাকেরের বিরুদ্ধে পুরুষত্বহীনতার অভিযোগ তুলেন।

এদিকে, এ অভিযোগ ওঠার পর দু’পরিবারের মধ্যস্থতাকারী একজন জাকেরকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে এ সংশ্লিষ্ট সকল ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। এত জাকের সম্পূর্ণ সুস্থ বলে প্রমাণিত হয়।

মৌসুমী-জাকেরের বিয়ের ঘটক মৌসুমীর আত্মীয় সৈয়দ জয়নুল হক এ বিষয়ে বলেন, মৌসুমীর কাছ থেকে আমি যখন শুনতে পারি যে- জাকের শারীরিকভাবে অক্ষম, তখন জাকেরকে নিয়ে সিলেট ওসমানি মেডিকেলের চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শাফিয়া রহমানের কাছে যাই। তিনি তাকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে রিপোর্ট দেন।

সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে দৈনিক সিলহটের পক্ষ থেকে মৌসুমীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে মুঠোফোনে মৌসুমীর বাবা রফিকুর আর এম এ মুনিম এ প্রতিবেদককে বলেন- বরপক্ষের সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমরা এ বিষয়ে অনলাইনে সিলেটে সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছি। করোনা পরিস্থিতি শেষে আমরা দেশে এসে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জাকেরের দায়ের করা মামলার বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাঁন মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, আদালতের নির্দেশ মতো মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তের পর কে দোষী আর কে নির্দোষ তা আদালতে প্রমাণ হবে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি আসলে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap