আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২২ ইং

সুবিচার পাচ্ছেন না সিসিক কাউন্সিলর লায়েক!

সিলহট রিপোর্টার :: সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পুলিশ লাইন্স, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মৎস্য ভবন, মহানগর পুলিশের উপকমিশনারের অফিসসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠান এ ওয়ার্ডের অন্তর্র্ভুক্ত।

২০১৮ সালে সিসিকের ৩ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন লায়েক। কিন্তু জনসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর প্রতিপক্ষের উৎপাতে এখন নিজেই অসহায় তিনি। না নগরভবন, না পুলিশ প্রশাসন কারও কাছেই সুরাহা পাচ্ছেন না। তার বাসা ও অফিসে ভাঙচুরের পর আত্মীয়স্বজনের ওপর হামলা করে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরছেন আসামিরা।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর লায়েক আক্ষেপ করে বলেন, বিষয়টা আসলে লজ্জার। ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি। আমি তো আইন হাতে তুলে নিতে পারি না। হামলাকারীরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। পরাজিত প্রার্থীরা সম্ভবত তাদের শেল্টার দিচ্ছেন। তা না হলে কাউন্সিলরের অফিস ও বাসা ভাঙচুর বা হামলার এক মাস হয়ে গেলেও কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তারা এলাকাতেই ঘোরাফেরা করছে।

গত সিসিক নির্বাচনে পরাজিত কয়েকজন প্রার্থীর মদদে একের পর এক হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে লায়েক বলেন, এ ঘটনার পর যুবদল নেতা শামিম এবং শাহীনের নেতৃত্বে আমার চাচাতো ভাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন বলেন, কাউন্সিলর লায়েক আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা কাউন্সিল মুখ্য নয়; একজন সাধারণ নাগরিককেও কেন সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে থাকতে হবে? সন্ত্রাসী ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দায়িত্ব প্রশাসনের। এক মাসেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া রহস্যজনক। আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, এ দাবি জানান তিনি।

এ নিয়ে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

প্যানেল মেয়র ও ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন বলেন, একজন কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া হতাশাজনক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় পুরো বিষয়টা জানা নেই। তবে একজন কাউন্সিলরের অফিস বা বাসায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুদ পদক্ষেপ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সন্ত্রাসীরা উৎসাহ পাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে নগরীর মুন্সিপাড়াস্থ ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েকের বাসা এবং কার্যালয়সহ আশপাশ আরও অন্তত ২০টি বাসায় একই সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ ও ‘নারায়ে তাকবির- আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালায় ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত। এসময় কাউন্সিলর লায়েকের বাসার গেট ও কার্যালয় এবং আশপাশের আরও অন্তত: ২০টি বাসায় ভাঙচুর চালান হামলাকারীরা। এছাড়াও কেটে দেয়া হয় কাউন্সিলর লায়েকের বাসার বিদ্যুৎ লাইন এবং সিসিটিভির ক্যাবল।

হামলাকারীরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। হামলায় অংশ নেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের পদ-পদবিধারী কয়েকজন।

ঘটনার পর সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাউন্সিলর লায়েকের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিতও করে। কিন্তু এ ঘটনার প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনও ধরা পড়েননি কোনো আসামি। এতে মামলার বাদিপক্ষ হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

হামলার ঘটনায় ২৪ এপ্রিল রাতে কাউন্সিলর লায়েক বাদি হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা (নং-৭৮) দায়ের করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন- নগরীর মুন্সিপাড়ার মােহাম্মদ আলীর ছেলে ইসমাইল হােসেন আনন্দ (২৬), শেখ খানের ছেলে মুদা খান (২৭), মৃত শুকুর আলীর ছেলে মােহাম্মদ আলী লাহিন (৪৮) , মৃত রওশন মিয়ার ছেলে এরশাদ আলী (৪৫), শফিক মিয়ার ছেলে এডঃ আরিফ আহমদ (৩২), মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে শফিক মিয়া ওরফে লাউটা শফিক (৬০), মৃত রওশন মিয়ার ছেলে মােহাম্মদ আলী ওরফে মাহমদ (৪৮) ও আকবর আলী পীর (৪৬), মােহাম্মদ আলীর ছেলে সাগর (১৯), জাকারিয়া মাসুদ খােকনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাহেল (২৮), মৃত মন্টু মিয়ার ছেলে মনির হােসেন (৪৫), শফিক মিয়ার ছেলে শরীফ আহমদ (২৫), জাকারিয়া মাসুদ খোকন (৪৯), মোগলাবাজার থানার কঠালপুর সেনবাজারের ইমাম উদ্দিনের ছেলে নয়ন আহমদ (৩৫) ও শড়িশপুরের মতছির আলীর ছেলে মো.মিজান (৩২)।

এদিকে কাউন্সিলর লায়েকের বাসায় হামলার সপ্তাহ পার হতে না হতে তার চাচতো ভাই শাকির আহমদের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। এতে শাকির আহমদ গুরুতর আহত হয়ে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। গত ২ মে রাত ১১টার দিকে নগরীর মুন্সীপাড়ায় এলাকায় ১৫ নম্বর বাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ বলেন, কাউন্সিলর লায়েকের বাসায় হামলাকারী আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা পলাতক রয়েছেন। তবে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

তিনি বলেন, পরে যে হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো- সে মামলায় দুজনকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap