আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২২ ইং

সিলেটে কতিপয় সাংবাদিক নেতার ‘কুটচাল’, বিব্রত মেয়র আরিফ

মো. রেজাউল হক ডালিম >>

সিলেটে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের প্রতিহিংসামূলক অপতৎপরতার লজ্জাজনক নজির প্রকাশ পেয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন সিলেটে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয় প্রতিহিংসার শিকার সাংবাদিকদের মাঝে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠান ছিলো বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর)। এ উপলক্ষে নগরীর আরামবাগ এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিসিক কর্তৃপক্ষ।

এই সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপিকার একটি ঘোষণায় সিলেটে অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ঘোষণাটি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

উপস্থাপিকার ওই ঘোষণায় বলা হয়, সম্প্রতি উচ্চ আদালত সারাদেশে অনিবন্ধিত সব অনলাইন নিউজ পোর্টাল (অনলাইন সংবাদমাধ্যম) বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে সিসিকের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে অনিবন্ধিত অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কোনো সাংবাদিক যেন কোনো ভিডিও ধারণ বা কোনো লাইভ সম্প্রচার না করেন।

এমন ঘোষণায় সিসিকের সংবাদ সম্মেলনস্থলে উপস্থিত অনলাইন সংবাদমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিকের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তাদের মধ্যে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন।

বেশ কয়েকজন সাংবাদিক তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, দেশে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল কতোগুলো, সে বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় তো এখনও কোনো ঘোষণা দেয়নি। এরকম কোনো তালিকাও নেই। এমনকি খোদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অনলাইন নিউজপোর্টাল রেজিস্ট্রেশন একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারণ ইতোমধ্যেই রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ছাড়া আর কোনো অনলাইন ভবিষ্যতে বের হবে না বা আজকে যে সমস্ত পত্র-পত্রিকা আছে সেগুলো ছাড়া ভবিষ্যতে আর কোনো পত্র-পত্রিকা বের হবে না, তেমন নিয়ম কোথাও নেই।

তাছাড়া তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটি (নিবন্ধন) একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া সবগুলোকে একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেটিও কতটুকুক সমীচীন, সেটিও ভাবার বিষয়। এসব বিষয় আমরা আদালতের নজরে আনবো।

এমন অবস্থায় সিসিকের বাজেট পেশ অনুষ্ঠানে কেন এমন ঘোষণা করা হলো, তা এক বিরাট রহস্যের বিষয় বলে মনে করেন অনলাইন সাংবাদিকরা।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের কতিপয় সাংবাদিক নেতা বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মেয়র আরিফের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁর উপর চাপ প্রয়োগ করেছেন- যাতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিসিকের অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির সংবাদ কাভার করতে না পারে। তবে মেয়র আরিফ ওই বৈঠকে তাদের কথায় সম্মত না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সেইসব সাংবদিক নেতা বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকাকে এমন ঘোষণা দিতে বাধ্য করেন।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এ ঘোষণার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এর পেছনে সিলেটের কতিপয় সাংবাদিক নেতার ‘কুটচাল’ রয়েছে- এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে, যেসব সাংবাদিক নেতা এমন ‘কুটচাল’ চালিয়েছেন বা সিসিককে এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করেছেন, তাদের সিংহভাগই সিলেটের শীর্ষ নিউজ পোর্টাল সিলেটভিউসহ প্রথম সারির অনলাইন সংবাদমাধ্যম থেকে প্রতিদিন সংবাদ কপি করে নিজ নিজ পত্রিকা অফিসে পাঠিয়ে লজ্জা থেকে বাঁচেন। সর্বোপরি মাস শেষে ‘চাপহীন কাজের’ বিনিময়ে পকেটে পুরেন বেতনের টাকা।

সিলেটের প্রথমসারির অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘একদিকে কতিপয় সাংবাদিক নেতা আমাদের পোর্টালের নিউজ কপি করে ঢাকায় পাঠিয়ে নিজেদের চাকরি বাঁচাচ্ছেন, অন্যদিকে তারাই আবার অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরোধীতা করছেন! সাংবাদিক হয়ে এমন প্রতিহিংসতার চর্চা তারা আর কতদিন করবেন?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap