আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২২ ইং

শাবি শিক্ষার্থীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছেন সিলেটবাসী

মো. রেজাউল হক ডালিম ::

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) টানা ১৩ দিন ধরে চলছিলো কতিপয় ছাত্র-ছাত্রীদের উশৃঙ্খল আন্দোলন। অবশেষে গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ২৮ শিক্ষার্থীর ‘আমরণ অনশন’ ভাঙার মধ্য দিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগর দাবিতে চলমান কথিত সেই আন্দোলন অনেকটা মিইয়ে পড়ে। ১৩ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রথম থেকেই ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন শাবিতে আন্দোলনকারীরা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু টুর্নামেন্টে যে ফুটবল দিয়ে খেলেন শিক্ষার্থীরা সেই ফুটবলে বড় করে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নাম লিখেন। ‘ফরিদ’ লেখা ফুটবল দিয়ে খেলার চিত্র তারা মোবাইল ফোনে ধারণ করে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেন।

এমন দৃশ্য দেখে সিলেটজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে শাবি শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন সিলেটের সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

কঠোর ভাষায় এ কাণ্ডের সমালোচনা করে ফেসবুকে অনেকে লেখেন- ‘একজন শিক্ষকের নাম ফুটবলের গায়ে লিখে যারা পায়ে লাগাচ্ছেন তারা আর যাই হোক- ভদ্র হতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার পরেও ওরা ছাত্র নামের কলঙ্ক। ওরা বেয়াদব। এটা কোনোভাবেই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।’

আন্দোলনের নামে শাবি শিক্ষার্থীদের সকল বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন- এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছন সচেতন সিলেটবাসী।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) রাতে আন্দোলনকারীদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ফাঁস হয়ে যায়। ওই প্রেস ব্রিফিং থেকে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে দেওয়াতেই তাদের রোষানলে পড়েন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে মূল বক্তব্য প্রদান করেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র ও শাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শাহরিয়ার আবেদিন।

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার সূতিকাগার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ওপেন কালচার গড়ে ওঠেছিলো। কিন্তু এই ভিসি এসে গত ৪ বছরে এক ধরণের তালেবানি কালচার কায়েম করেছেন। মেয়েদের সন্ধ্যা ৭টার পর হল থেকে বের হতে দেন না। বের হতে হলে মেয়েদের নানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়।

শাহরিয়ার আবেদিন আরও বলেন, তালেবানি কালচার বলতে আমরা যেটি বুঝাতে চাচ্ছি সেটি হচ্ছে- এখানে প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করে। আপনারা জানলে অবাক হবে যে- সন্ধ্যা ৭টার পরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে ছাত্রীরা ঢুকতে গেলে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় এই ভিসির কারণে।

শাহরিয়ার আবেদিন প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে একজন ভিসি ছেলে-মেয়েদের আলদা করে নিয়ম চালু করতে পারেন? যে দেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে?

ওই শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা সেই সময় আরও বাড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই ভিসি লাইব্রেরিতে ছেলে-মেয়েদের একত্রে ব্যক্তিগত সময় কাটানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। যেই দেশে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার সূতিকাগার হওয়ার কথা, কিন্তু তিনি এ ক্ষেত্রেও বেশি সময় বাড়িয়ে দেননি।

শিক্ষার্থীদের প্রেস ব্রিফিংয়ের পর এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষ শিক্ষার্থীদের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সিলেট একটি আধ্যাত্মিক নগরী। সিলেটে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা চলবে না। কিছু খোঁড়া অজুহাতে আন্দোলন করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠিত করার পায়তারা সিলেটবাসী শক্ত হাতে প্রতিহত করবেন।

শিক্ষার্থীদের এমন ন্যাক্কারজনক ও কুরুচিপূর্ণ উদ্দেশ্য ফাঁস হওয়ার পর সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করা হয়।

এছাড়াও বিবাহযোগ্য তরুণ-তরুণীরা আন্দোলনের নামে এক জায়গায় এক কম্বলের নিচে ‘অনৈতিকভাবে’ রাত্রীযাপন, নারী-পুরুষ কাফনের কাপড় পরে প্রতীকী জানাযার নামাজ পড়াসহ আন্দোলনকারীদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে গত ১৩ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাতে ওই হলের ছাত্রীরা হল ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। সেই থেকে এই কথিত আন্দোলনের সূচনা। একদিন পর ১৫ জানুয়ারি আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নতুন মাত্রা পায় আন্দোলন। হলের প্রভোস্টের অপসারণ, অব্যবস্থপনা দূর, ছাত্রলীগের হামলার বিচার চেয়ে এর পরদিন (১৬ জানুয়ারি) আরও শিক্ষার্থী আন্দোলনে শামিল হন। সেদিন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাকে মুক্ত করতে গেলে পুলিশকে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। এতে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয় এবং সংঘর্ষে পুলিশ ও শিক্ষকসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন।

১৬ জানুয়ারির সংঘর্ষের ঘটনায় দুই থেকে তিনশ’ অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরদিন (১৭ জানুয়ারি) রাতে মামলা করে পুলিশ। মামলার এজাহারে পুলিশ লিখেছে, সেদিন শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর গুলিও ছুঁড়েছিল। এ মামলা প্রত্যাহারে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১০টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৮ জানুয়ারি আরও উত্তপ্ত হয় শাবি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের অপসারণ, প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে মুখর ছিলো ক্যাম্পাস। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ক্যাম্পাসে যান ক্যাম্পাসে যান আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের সাথে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশফাক আহমদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহা ও সিসিক কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস না পেয়ে আন্দোলন থেকে সরার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে গণসাক্ষর সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বরাবরে চিঠি পাঠান।

১৮ জানুয়ারি রাত ১০টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আমরণ অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজনের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ জনের সাথে ২২ জানুয়ারি ৫ শিক্ষার্থী যোগ দেন।

২১ জানুয়ারি দুই দফায় শাবি ক্যাম্পাসে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাদেল। তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে। শিক্ষামন্ত্রী অনশন ভাঙতে ও আলোচনায় বসতে আহবান জানান শিক্ষার্থীদের। আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান। প্রথমে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও পরে শিক্ষার্থীরা মত বদলে তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে ২১ জানুয়ারি রাতে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় যায়। পরদিন (২২ জানুয়ারি) তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাসায় বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ফের আলোচনায় বসতে শিক্ষার্থীদের আহবান জানান।

২২ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে শাবির আন্দোলনরতদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আন্দোলন থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে জোর দেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর দ্বিতীয়বারের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ৮টার দিকে শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিকাল থেকে তাঁর বাসা ঘেরাও করেন তারা। পরদিন (২৫ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় প্রদান করা হয়।

এদিকে, শাবিপ্রবি’র ছাত্র আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীকে ঢাকায় গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল। পরে মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের সিলেট নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গ্রেফতারতৃরা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর দারিপাকা গ্রামের মতিয়ার রহমান খানের ছেলে হাবিবুর রহমান খান (২৬), বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন লক্ষ্মীকোলা গ্রামের মুইন উদ্দিনের ছেলে রেজা নুর মুইন (৩১), খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গার মিজানুর রহমানের ছেলে এএফএম নাজমুল সাকিব (৩২), ঢাকা মিরপুরের মাজার রোডের জব্বার হাউসিং বি-ব্লকের ১৭/৩ বাসার এ কে এম মোশাররফের ছেলে এ কে এম মারুফ হোসেন (২৭) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন নিয়ামতপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে ফয়সল আহমেদ (২৭)। তাদের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা তাঁতী লীগে সাংগঠনিক সম্পাদক লায়েক আহমদ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তবে বুধবার তাদের জামিন প্রদান করেন আদালত।

অপরদিকে, আন্দোলনের ১২ তম দিন (মঙ্গলবার- ২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেটের শাবিপ্রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কিছুটা পিছু হটতে দেখা যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার থেকে অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা চালান আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ। তবে কয়েকজন অনশনকারী পানি পান করতে রাজি না হওয়ায় তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় চলে যান। প্রায় ৩ ঘণ্টা আলোচনার পর গণমাধ্যমকে তারা অনশন না ভাঙা এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।

এই অবস্থায় ঢাকা ছুটে আসেন শাবির সাবেক অধ্যাপক ড. মু. জাফর ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক। তাদের অনুরোধে ১৬৩ ঘণ্টা পর বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে পানি পানের মাধ্যমে অনশন ভঙ্গ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ছাত্রীরা জাফর ইকবালকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জাফর ইকবালও আলিঙ্গন করে ছাত্রীদের অনশন ভাঙান। এমন কিছু দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ সিলেটবাসী এমন ‘জড়াজড়ি কাণ্ড’র প্রতিবাদ করেন। অনেককে এ নিয়ে ট্রলও করতে দেখা যায়।

এদিকে, শাবির এই কথিত আন্দোলনে ইন্ধন ও অর্থ জোগানদাতা সাড়ে ৩ শ জনের একটি তালিকা হাতে নিয়ে তদন্তকাজ চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই আন্দোলনের জন্য কয়েকটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে সেগুলোতে ১১ লাখেরও বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে- এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তাই এই আন্দোলনকে দেশের জন্য ‘বড় হুমকি’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap