আজ [bangla_date], [english_date]

সিলেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে জাল টাকার কারাবারিরা

ডেস্ক রিপোর্টার :

সিলেটজুড়ে চষে বেড়াচ্ছেন জাল টাকার কারবারিরা। সুযোগ বুঝেই সহজ-সরল মানুষের হাতে জাল টাকা গুজে দিয়ে করছেন প্রতারণা। দিন দিন সিলেটে বাড়ছে জাল টাকার কারবারিদের অপতৎপরতা।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও রয়েছে তৎপর। গত কিছুদিনের মধ্যে সিলেটে র‍্যাব ও পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন জাল টাকার ৪ কারবারি। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ ও র‍্যাব।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়ে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। জাল টাকার কারবারিদের ঘিরে জাল গুটিয়ে আনা হচ্ছে। শীঘ্রই আরও অভিযান চালিয়ে এমন কারবারিদের গ্রেফতার করা হবে এবং এই চক্রটি ধ্বংস করা হবে।

সর্বশেষে হবিগঞ্জের চুনারুঘটা থেকে জাল টাকাসহ একজন পেশাদার প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। তার কাছ থেকে ৩ লক্ষ জাল টাকা জব্দ করা হয়।

র‍্যাব জানায়, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল মঙ্গলবার (২ মার্চ) চুনারুঘাটের দেওরগাছ ইউনিয়নের কাচুয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৩ লক্ষ টাকার জাল নোটসহ মো. সফিকুর রহমান (৫৫) নামের এক কারবারিকে গ্রেফতার করে। সফিকুর চুনারুঘাট থানার গোবরখলা এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে।

র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সোমেন মজুমদার জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘ দিন যাবৎ সীমান্ত এলাকা থেকে জাল টাকা সংগ্রহ করে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে মানুষ মারাত্মকভাবে প্রতারণার শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সফিকুর সেই চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সফিকুর জানায়, ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে এই প্রতারক চক্র বিশেষভাবে সক্রিয় থাকে। এ চক্রের সদস্যরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে টার্গেট করে জাল টাকা বানায় এবং বাজারে ছড়িয়ে দেয়। চক্রটি প্রতি ১ লক্ষ টাকার জাল নোট ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

এর আগে গত ২১ মার্চ (সোমবার) সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুজন জাল টাকার করবারিকে ধরেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সিলেটের তেমুখী সাহেবেরগাঁওয়ে জাল টাকার নোটসহ একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কয়েকজন দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে জাল টাকার লেনদেন করছে খবর পেয়ে অভিযান চালায় থানাপুলিশ। এসময় মুন্না আহমদ (২২) ও সুজন আহমদ (১৯) নামের দুই জাল টাকার কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।

মুন্না ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর থানার বেলুয়া শ্যামপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে ও সুজন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শাহ সিকন্দর (পাখিয়া টেঙ্গর) গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছে ১ হাজার টাকার ২১টি জাল নোট জব্দ করে পুলিশ। পরদিন তাদের আদালতে প্রেরণ করলে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

এর কিছুদনি আগে (গত ১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন তেমুখী সাহেবেরগাঁও ডাচ বাংলা ব্যাংকে ভেতর থেকে পাঁচ হাজার টাকার জাল নোটসহ আব্দুল আলীম শামীম (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। শামীম সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিমুলতলা নোয়াগাঁও (রাজনগর) গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জালালাবাদ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে আব্দুল আলীম শামীম (২৯) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় পূর্বক তার কাছ থেকে ঙঙ ৫২০৭৯৫০ সিরিয়ালের ৬টি ৫০০ টাকার নোট, ঙঙ ৫২০৭৯৫৭ সিরিয়ালের ৩টি ৫০০ টাকার নোট, ঙঙ ৫২০৭৯৫৯ সিরিয়ালের ১টি ৫০০ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্তি উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, সিলেটে জাল টাকার কারবারিদের কারবার কিছুটা বেড়ছে এটা ঠিক। তবে পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং এ চক্রটি সিলেট থেকে উপড়ে ফেলা হবে।

র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সোমেন মজুমদার জানান, চাল টাকার চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং এ অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap