আজ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে মে, ২০২২ ইং

খালেদার কারান্তরীণের দুই বছর

ডেস্ক রিপোর্টার :: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর আজ শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি)। ২০১৮ সালের এই দিনে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান তিনি। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন।

চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে গত দুই বছর ধরে জনসভা, প্রতিবাদসভা, বিক্ষোভ সমাবেশ, গণঅনশন, প্রতীকী অনশন, গণস্বাক্ষর, গণসংযোগ, মানববন্ধন, বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে ব্রিফিংসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। সর্বপরি জামিনে মুক্তির জন্য আইনি লড়াই অব্যাহত রেখেছে শুরু থেকেই। কিন্তু খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারেনি। ফলে ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে শেষ দুই বছর কারাগারে রয়েছেন তিনি।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় দলটির চেয়ারপারসনের মুক্তি এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে। মধ্যম সারি ও মাঠ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা এবং সরকারের মনোভাব বুঝতে দেরি হওয়ার কারণেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। তার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের আস্থায় আনতে হবে। বিএনপির কোনো কর্মী গ্রেফতার বা আহত হয়ে হাসপাতালে গেলে শীর্ষ পর্যায়ের খবর নেন না। তাদের সহযোগিতা করেন না। মাঠ-পর্যায়ের কর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতে হবে। তারাই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে।’

এ প্রসঙ্গে দলটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘ম্যাডাম কবে বের হবেন, কোন প্রক্রিয়ায় বের হবেন-সে বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো বড় নেতা আমি নই। তবে মাঠের একজন কর্মী হিসেবে আমার মনে হয়, রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি যেভাবে মোকাবিলা করার কথা ছিল বিএনপি সেভাবে করতে পারেনি। আমার দল মনে করেছিল- আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ম্যাডাম মুক্ত হতে পারবেন। তাই তিনি আটক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনে না গিয়ে আইনি লড়াইয়ে গেছে বিএনপি। বিএনপির বোঝা উচিত ছিল খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেয়ার জন্য নয়। মাঠের একজন কর্মী হিসেবে আমার নিজের দায়িত্বটাও আমি ঠিক মতো পালন করতে পারিনি। আমরা সবাই মিলে ব্যর্থ হয়েছি। এখন যেটা করণীয়, সেটা হলো- দ্রুত দলকে সংগঠিত করে ‘অলআউট’ আন্দোলনে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap